কুমিল্লায় যৌথবাহিনীর হেফাজতে যুবদল নেতা নিহতের মামলায় গ্রেপ্তার ১

দেশজুড়ে আলোচিত কুমিল্লায় যৌথবাহিনীর হেফাজতে যুবদল নেতা মো. তৌহিদুল ইসলাম নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাইদুল হাসান ওরফে সবুজ (৪৫) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথবাহিনী।



সোমবার (২৪ মার্চ) ভোরে কুমিল্লা ইপিজেড এলাকা থেকে যৌথ বাহিনী তৌহিদুল হত্যা মামলার ৫ নম্বর আসামি সাইদুল হাসানকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার সাইদুল হাসান কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নের ইটাল্লা গ্রামের মোক্তল হোসেনের ছেলে এবং কুমিল্লা ইপিজেডের একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী। আলোচিত এ ঘটনার এক মাস ২১ দিন পর এই প্রথম মামলায় একজন আসামি গ্রেপ্তার হলেন এবং তিনি এ মামলার এজাহারনামীয় ৫ নম্বর আসামি।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম জানান, সোমবার ভোরে কুমিল্লা ইপিজেড এলাকা থেকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা যুবদল নেতা মো. তৌহিদুল হত্যা মামলার ৫ নম্বর আসামি সাইদুল হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে। থানায় হত্যা মামলা হওয়ার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। এ মামলার অপর আসামিরা পলাতক রয়েছে। তাদেরকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার সাইদুলকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

নিহত তৌহিদুলের বড় ভাই আবুল কালাম আজাদ জানান, মামলার আসামিদের সঙ্গে আমাদের পরিবারের জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে বেসামরিক আসামিরা আমার ভাইয়ের হত্যার নেপথ্যে ছিল। আমরা অপর পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচার চাই।

এর আগে যৌথবাহিনীর পরিচয়ে গত ৩০ জানুয়ারি রাতে তৌহিদুলকে নিজ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তার মৃত্যুর খবরে দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়। এ ঘটনায় আইএসপিআর থেকে গণমাধ্যমে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। এতে তৌহিদুলের মৃত্যুর ঘটনাটি অনাকাঙ্খিত ও দুঃখজনক বলে উল্লেখ করে বলা হয় এবং উক্ত সেনা ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডারকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়াসহ মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনের জন্য একটি উচ্চপদস্থ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

নিহত তৌহিদুলের স্ত্রী ইয়াছমিন নাহার বাদী হয়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারি কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় বেসামরিক ৬ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। অজ্ঞাতনামা হিসেবে আসামি করা হয়েছিল ২০ থেকে ২৫ জনকে। অজ্ঞাতনামা আসামিরা সিভিল পোশাকধারী ও সেনাবাহিনীর মতো পোশাক পরিহিত ছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।


Post a Comment

Previous Post Next Post